বুধবার, ২২ Jul ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

আমতলীতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল
আমতলী প্রতিনিধিঃ আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবীতে আলাদা আলাদাভাবে গত ১০ দিন ধরে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল করছে। কিন্তু এদের প্রতিহতে উপজলা ছাত্রদল রাজনৈতিকভাবে কোন ভুমিকা নিচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ। দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে অপ্রতিকর ঘটনা আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন দাবী করেন তিনি থানায় যোগদান করার পর থেকে কোন ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারছেন না। উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিবের মোঃ ইমরান খাঁনের অভিযোগ উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতা ছাত্রলীগ লালন- পালন করছে। ফলে ছাত্রলীগ প্রতিহতে ভুমিকা রাখতে পারছি না। জানাগেছে,শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তবর্তিকালীন সরকার ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করতে পারেনি। এরপর ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগ প্র্রশাসনিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ে। তারা প্রকাশে সভা-সমাবেশ করছে পারছে না, নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং অনেক নেতাকর্মী জেলা হাজতে রয়েছে। আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবীতে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগ গত ১০ দিন ধরে আলাদা আলাদা ভাবে গ্রামাঞ্চল ও আমতলী পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিশোর গ্যাং লিডার ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহার নেতৃত্বে পৌর শহরের ওয়াবদা সড়কে প্রকাশ্যে মিছিল নিয়ে ফায়ার সার্ভিস হয়ে মহাসড়কে মিছিল করেছে। ঘন্টা ব্যাপী মিছিল করলে উপজেলা ছাত্রদল ও পুলিশ প্রশাসন তাদের প্রতিহতে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এর আগে গত ১১ জুলাই উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ মতিন খাঁনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মাথায় হলুদ ক্যাপ ও মাস্ক পড়ে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ফায়ার সার্ভিস এলাকার প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। গত ১২ জুলাই উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি নবাব তালুকদারের নেতৃত্বে হলদিয়া এলাকায় মিছিল করা হয়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ওই ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। ছাত্রলীগের একটি সুত্র্র দাবী করছে গত ১১ জুলাই থেকে ২১ জুলাই ( মঙ্গলবার) পর্যন্ত গত ১০ দিন ধরে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদা ভাবে গ্রামাঞ্চল ও উপজেলা শহরে মিছিল করছে। এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগ গত ১০ দিন ধরে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করলেও উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তা প্রতিহত কোন ভুমিকা নেয়নি। এতে কার্যতঃ উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম মন্থর হয়ে পরেছে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কিশোর গ্যাং লিডার মোঃ ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহা বলেন, আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজ বন্দীদের মুক্তির দাবীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছি। যতদিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ মতিন খাঁন বলেন, বিনা বাধায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করতে দিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। ইউনুসের অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আমরা মানিনা। তিনি আরো বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছি। আমাদের দাবী না মানা হলে আন্দোলন পর্যায়ক্রমে বেগবান করা হবে।
আমতলী উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব ইমরান খাঁন বলেন, উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতার কারনে ছাত্রলীগ প্রতিহতে কোন কর্মসুচী দিতে পারছি না। তারা ছাত্রলীগ লালন-পালন করছেন। আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই ক্ষুব্দ হয়ে অতীতের ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
তিনি আরো বলেন, আমি আমতলী থানায় যোগদান করার পর থেকে কোন ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে মিছিল মিটিং করতে পারছে না। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট সজাগ আছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply